মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে অনুমোদিত বিভিন্ন টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরই একই ঠিকাদার বাঁশ, বস্তা, আলুর নেট সরবরাহ এবং হিমাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্ভিসিংয়ের কাজ পেয়ে আসছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না করায় মাঠ পর্যায়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্ম সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের টেন্ডার অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বাঁশ, বস্তা সরবরাহ এবং হিমাগার পরিষ্কার ও সার্ভিসিং সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ঠিকাদার এখন পর্যন্ত কোনো কাজ সম্পন্ন করেননি।
ফার্ম সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, সময়মতো বস্তা সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে নিজেদের অর্থায়নে প্রায় ২ লাখ টাকার বস্তা কিনেছেন। এতে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের পাশাপাশি আর্থিক চাপও তৈরি হয়েছে।
এদিকে হিমাগার পরিষ্কার ও সার্ভিসিং না হওয়ায় সংরক্ষিত বীজ আলুর বড় একটি অংশ পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিবছর এ ধরনের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে সরকারের।
অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে আলু সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় মাকালা বাঁশ ও খুঁটি ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে পুরাতন বাঁশ ব্যবহার করে কোনোভাবে আলু সংরক্ষণ করতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ফার্মের কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, “প্রতি বছর একই ঠিকাদার কাজ পেলেও সময়মতো কাজ সম্পন্ন না করায় আমরা ভোগান্তিতে পড়ছি। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি বড় অঙ্কের ক্ষতি হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে কৃষি খাতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
শেষ কথা: কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। তাই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গাফিলতি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply